ঢাকা বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২ ইং | ৬ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

জয়পুরহাটে কিডনি পাচারের মূল হোতাসহ ৯ সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২২, সন্ধ্যা ৬ঃ০৫

জয়পুরহাটে র‌্যাব প্রাতিষ্ঠানিক সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। জঙ্গি, সন্ত্রাসী, সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধী, মাদক, অস্ত্র, ভেজাল পণ্য, ছিনতাইকারী, প্রতারক, হত্যা মামলার আসামিসহ সকল অপরাধের  বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

জয়পুরহাট জেলার কালাই থানায় দীর্ঘদিন যাবৎ কিডনি ক্রয় বিক্রয় কারী দালালদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে প্রধানত গরীব, দরিদ্র ও আর্থিক অনটনে জর্জরিত মানুষদের টার্গেট করে। অতঃপর অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের দেহ হতে কিডনি সংগ্রহ করে। সংগ্রহকৃত কিডনি গুলোর গ্রাহক প্রধানত দেশের ধনী পরিবার ও পার্শ্ববর্তী দেশ সমূহ। চক্রটি বিভিন্ন ধাপে ভিকটিমদের কিডনি গ্রাহক শ্রেণীর কাছে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সরবরাহ করে থাকে। ভিকটিমরা শুধুমাত্র মোটা অঙ্কের টাকার লোভেই উক্ত কাজে প্ররোচিত হয়। কিন্তু কিডনি নিয়ে চক্রটি চুক্তি মোতাবেক পাওনা পরিশোধ করে না। পরবর্তীতে ভিকটিমরা টাকা চাইলে তাদের প্রাণনাশের হুমকিসহ আইনের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে।

এভাবে উল্লেখিত অঞ্চলের বহু মানুষ প্রতারিত ও শারীরিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং হচ্ছে।

গত ১১ অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দে উল্লেখিত বিষয়ে একটি মামলা ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম র‌্যাব-৫ একটি অভিযান পরিচালনা করে, এ চক্রের পাঁচজন সদস্যকে আটক করে এবং দশ বারোজন পলাতক আত্মগোপন করার কারনে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে চক্রের সক্রিয়তা এবং ভয়াবহতা বিবেচনা করে র‌্যাব এর ছাঁয়া তদন্ত অব্যাহত থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৫, সিপিসি-৩, জয়পুরহাট র‌্যাব ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল কোম্পানী অধিনায়ক লেঃ কমান্ডার তৌকির এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদ এর নেতৃত্বে ১১ জানুয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দে  জয়পুরহাট জেলার কালাই থানাধীন বৈরাগীহাট এবং মোসলেমগঞ্জ এলাকায় এ বিষয়ে দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করে  উক্ত চক্রের সদস্য মো. খাজা ময়েনউদ্দিন (৪৪) পিতা-মৃত আবু সাইদ আকন্দ, সাং-উলিপুর (ফকিরপাড়া), মো. আজাদুল ইসলাম (৩৭), পিতা- মো. আবুজার রহমান, সাং-উলিপুর (ফকিরপাড়া), মো. আব্দুল করিম ফোরকান আলী (৪৫),পিতা- মো. বোরহান উদ্দিন, সাং- বহুতি (ফকিরপাড়া), আফসার ফকির (৫৬), পিতা- মৃত কছিম উদ্দিন, মো. নুরুল ইসলাম (৫০), পিতা- মৃত আছির উদ্দিন মন্ডল, উভয় সাং- পাইকপাড়া, মো. বাবলু ফকির(৫২), পিতা- মৃত আবু বক্কর ফকির, সাং-পূর্ব কিষ্টপুর(গ্রামতলা), মো. সোবহান মন্ডল(৫২), মো. মজাহিদুল মন্ডল(৪০), উভয় পিতা- মো. আব্বাস আলী মন্ডল, উভয় সাং- দুধাইল নয়াপাড়া, মো. সাজেদুল ফকির(৩৭), পিতা- মৃত মোখলেছার রহমান, সাং- দুধাইল নয়াপাড়া, সর্বথানা-কালাই, জেলা-জয়পুরহাটগণকে আটক করা হয়।

উল্লেখ্য তাদের নামে পূর্বেও, ১৯৯৯ সালের মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন মোতাবেক এক বা একাধিক মামলা রয়েছে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জয়পুরহাট জেলার কালাই থানায় জিডি মূলে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে।