ঢাকা রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ইং | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ঘাটাইলে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২১, রাত ৯ঃ৫৫

স্বামীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি হার্ট অ্যাটাক বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল স্ত্রী লিজা আক্তার (১৬)। তবে সত্য চাপা থাকেনি বেশিক্ষণ। তদন্তে উল্টে যায় ঘটনার মোড়। খুলতে থাকে হত্যাকাণ্ডের রহস্যজট। বেরিয়ে আসে স্ত্রী লিজার পরকীয়ার ঘটনা। প্রেমিক শাহীন মিয়ার (২৬) সঙ্গে মিলে স্বামী প্রতীক হাসানকে (৩১) হত্যার নির্মম কাহিনী বেরিয়ে আসে। স্বামী প্রতীক হাসান টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কাজলা গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে।

পুলিশ এবং স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতীক হাসান একই এলাকার লেবু মিয়ার মেয়ে লিজা আক্তারকে বিয়ে করেন দুই বছর আগে। কাজের উদ্দেশ্য এই দম্পতি থাকতেন আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায়। জামগড়া এলাকার দাদা মার্কেটের ভুট্টু মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকতো তারা দুইজন। প্রতীক হাসান মিতালী টেক্সটাইল নামের একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো।

সেখানে লিজার সাথে পরিচয় হয় আরেক ভাড়াটিয়া শাহীন মিয়ার সাথে। লিজা এবং শাহীনের মধ্যে গড়ে উঠে পরকিয়ার সম্পর্ক । সেই পরকিয়ার জেরে প্রায়ই ঝগড়া হতো লিজার স্বামীর সাথে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২১ নভেম্বর রাতে লিজা এবং প্রেমীক শাহীন স্বামী প্রতিক হাসানকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। পরের দিন সকালে স্বামীর মৃতদেহ নিয়ে ঘাটাইলের কাজলা গ্রামে প্রতীক হাসানের বাড়িতে আসে। হার্ট অ্যাটাকে তার স্বামী মারা যায় বলে পরিবারকে জানায়। কিন্তু পরিবারের সন্দেহ হওয়ায় থানা পুলিশকে জানালে পুলিশের জিজ্ঞেসাবাদে সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসে।

সাগরদিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান, লিজার বক্তব্য অনুযায়ী লিজা এবং পরকীয়া আসক্ত প্রেমীক শাহীন শ্বাসরোধ করে তার স্বামী প্রতিক হাসানকে হত্যা করেছ। ঘটনাটি আশুলিয়া এলাকায় ঘটেছে। তাই আমরা আটক লিজাসহ আরো দুইজনকে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় (২৩ নভেম্বর) সকালে প্রতীক হাসানের বাবা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক কায়সার হামিদ নিউজ টোয়েন্টিফোর জিবিকে জানান, ঘাতক লিজাসহ আরো ৩ জনের নামে মামলা হয়েছে। লিজা, লিজার মা ফাতেমা ও দাদি লাকিকে আদালতে মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আসামী শাহীন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।