ঢাকা বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২ ইং | ৬ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১৩০ টাকায় সামিয়ার স্বপ্ন পূরন

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০২১, রাত ১০ঃ০১

অনেক সিনেমায় দেখা যায়- লটারি জিতে হয়ে যান কোটিপতি। তেমনই এক ঘটনার সাক্ষী টাঙ্গাইলের সামিয়া ইসরাত। তবে লটারি জিতে কোটিপতি হননি তিনি। ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন মাত্র ১৩০ টাকা দিয়ে। কোনো প্রকার ঘুষ ছাড়াই পেয়েছেন পুলিশে চাকরি। আর তাতেই স্বস্তি মিলেছে হতদরিদ্র পরিবারটির।

টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের পাছ ইরতা গ্রামের মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে সামিয়া ইসরাত।

সামিয়া ইসরাত নিউজ টোয়েন্টিফোর জিবিকে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, বাবা দেলোয়ার হোসেন ১০ বছর ধরে সবজির ব্যবসা করতেন। হঠাৎ কিছুদিন যাবৎ বাবা অসুস্থ।মা গৃহিনী। ছোট ভাই বিপ্লব মাধ্যমিকে পড়াশুনা করে। বাড়িতে কেউ নেই সংসারের খরচ চালানোর মত। মায়ের কাজে সহযোগিতা করতাম সব সময়।আল্লাহর কাছে সব সময় বাবা মা এবং দেশ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করতে চেয়েছি।অভাবের সংসারে থেমে যেতে দেইনি আকাশচুম্বী স্বপ্ন।আর তাই গ্রামের সহবতপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি শেষ করে টাঙ্গাইলের ’দ্য টাঙ্গাইল কলেজ থেকে মাধ্যমিক শেষ করে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ডিগ্রীতে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করেছি। এর মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশে লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখি।যদিও লোকমুখে শুনতাম মামা খালু ছাড়া নাকি সরকারি চাকরি হয়না।তবুও আল্লাহর উপর ভরসা রেখে বাবার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে আবেদন করি। এরপর ১৮ নভেম্বর টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্স মাঠে শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই।এরপর ১৯ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হই। পরবর্তীতে ২৬ নভেম্বর ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। ২৭ নভেম্বর রাত ১টার সময় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার স্যার ফলাফল প্রকাশ করেন। এ সময় আমার নাম ১১ জন মেয়ের মধ্যে ৫ নম্বরে ঘোষণা করা হয়। রেজাল্ট শুনে খুশিতে আমার চোখে পানি চলে আসে।

সামিয়া আরও বলেন, আল্লাহ আমার পরিবারের প্রতি সুদৃষ্টি দিয়েছেন। এখন আমার বাবার চিকিৎসা ও পরিবারে সার্বিক সহযোগিতা করতে পারবো।তবে সব থেকে বেশি আনন্দের বিষয় হলো পুলিশে চাকরি পেতে আমার কারও কাছে গিয়ে কোন প্রকার তদবির করতে হয়নি। হয়নি কোন মামা খালুর প্রয়োজন। মাত্র ১৩০ টাকা খরচ হয়েছে আমার স্বপ্ন পূরন। আবেদন করতে ৩০ টাকা ও পরীক্ষার ফি বাবদ ১০০ টাকা খরচ হয়েছে। আজ চাকরিটা পেয়ে বুঝলাম পুলিশের চাকরি নিতে কোনো ঘুষ লাগে না। নিজের যোগ্যতা অধম্য ইচ্ছে শক্তিতেই আজ আমি এ পর্যন্ত এসেছি। সবার কাছে দোয়া চাই,আমি যেনো দেশ ও মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি এবং বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি।

সামিয়া ইসরাতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, "মেয়ের চাকরির কথা শুনে খুব ভালো লাগছে। ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ পুলিশের সকল কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার স্যারকে এ ধরনের ঘুষমুক্ত একটি চাকরির ব্যবস্থা করার জন্য। এখন পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলার স্বপ্ন দেখতে পারবো মেয়ের মাধ্যমে। কখনো ভাবিনি আমার মেয়েটার এত সহজে চাকরিটা হয়ে যাবে। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া।"

টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন,একদম ঘুষ ও কোনো প্রকার সুপারিশ ছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে এইবার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলায় ৩ হাজার চাকরী প্রার্থী ছিলো, সেখান থেকে ৪৯৭ জন শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এরপর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ১৬৫ জন। এর মধ্যে  চুড়ান্ত হয়েছে ৭৫ জন। আর তাতে পুরুষ ৬৪ জন ও মেয়ে ১১ জন। পরবর্তীতে তাদের মেডিকেল পরীক্ষার পরে তাদের ট্রেনিংয়ে পাঠানো হবে।"