ঢাকা শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১ ইং | ১ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ভবন নেই তিন ইউপির

প্রকাশিত: ১৯ অগাস্ট ২০২১, দুপুর ২ঃ৫৩

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নিজস্ব ভবন নেই। বর্তমানে এই ইউনিয়ন পরিষদ গুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ভাড়া করা বাড়িতে। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে এসব পরিষদ হিমশিম খাচ্ছে। গঠিত হওয়ার সাত বছর অতিবাহিত হলেও এসব ইউনিয়ন পরিষদ স্থায়ী ভবন পায়নি।

২০১৪ সালে ঘাটাইলের ধলাপাড়া, রসুলপুর ও সন্ধানপুর ইউনিয়ন পরিষদ বিভক্ত করে সাগরদীঘি, লক্ষিন্দর ও সংগ্রামপুর নামে তিনটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়। ২০১৮ সালে নবগঠিত ইউনিয়ন তিনটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পুরোনো ইউনিয়ন গুলো আগে নির্মিত স্থায়ী ভবন বরাদ্দ পেয়েছে। আর নতুন ইউনিয়ন গুলো ভাড়া করা বাড়িতে পরিষদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

বর্তমানে সাগরদীঘি ও সংগ্রামপুর ইউনিয়নের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ভাড়া করা একটি বাড়িতে। আর লক্ষিন্দর ইউনিয়নের কার্যক্রম চলছে গারোবাজার গ্রোথ সেন্টারের (বাজারে নির্মিত সরকারি দোকানঘর) ঘরে।

সাগরদীঘি গ্রামের আব্দুর রহিম (৪০) বলেন, বিধবাভাতা, জন্মনিবন্ধন ও বয়স্কভাতাসহ সব কাজ এক কক্ষের মধ্যে করতে হয়। ফলে ভিড়ের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

এ ব্যাপারে সন্ধানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, সাগরদীঘির হেকমত শিকদার ও লক্ষিন্দরের একাব্বর আলীর সঙ্গে কথা হয়।

 তাঁরা জানান, নিজস্ব ভবন না থাকায় ভাড়া করা অপরিসর বাড়িতে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন প্রকল্পে সেবা দেওয়ার আলাদা কক্ষ না থাকায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সেবাগ্রহীতারাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভবন সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানান।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সংগ্রামপুর ইউনিয়নের জন্য জমি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। লক্ষিন্দর ইউনিয়নের স্থান নির্বাচন নিয়ে লক্ষিন্দর ও সানবান্ধা গ্রামের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। উভয় গ্রামবাসী ইউনিয়ন পরিষদের নামে জমি দিয়েছে। এ ব্যাপারে একপক্ষ প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদনও করেছে। সাগরদীঘি ইউনিয়নের জন্য স্থান নির্বাচন করা হলেও জমি রেজিস্ট্রি এখনো সম্পন্ন হয়নি।

লক্ষিন্দর ইউনিয়নের লক্ষিন্দর গ্রামের স্কুলশিক্ষক আবু রায়হান বলেন, সুপরিসর ভবন না থাকায় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, ভিজিডি ও ভিজিএফের চাল উত্তোলনসহ সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পেতে ইউনিয়নবাসীকে ভীষণ হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, সংগ্রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সাগরদীঘি ও লক্ষিন্দর ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণসহ অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে।