ঢাকা শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১ ইং | ১ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু,অচেতন স্বামীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, রাত ১১ঃ৫৫

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক নারীকে গলায় গামছা পেচিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর)দুপুরে রসুলপুর (গর্জনাপাড়া) গ্রামে ঘটনা ঘটেনিহত ছফুরা বেগম (৪৫),সে গর্জনাপারা গ্রামের প্রবাস ফেরত লতিফ মিয়ার (৫২)স্ত্রী।নিহত ছফুরা দুই মেয়ে এবং এক ছেলে সন্তানের জননী।বড় মেয়ে লাভলী আক্তার(২৮),মেজো মেয়ে লাভনী(২৩) আর একমাত্র ছেলে মো. সাব্বির হোসেন(১৬)। 

নিহতের ছেলে মাদ্রাসা ছাত্র মো. সাব্বির হোসেন নিউজ টোয়েন্টিফোর জিবিকে জানান,"দুপুর একটার দিকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে ফিরে ঘরে ঢুকতেই কীটনাশকের গন্ধ পাইএকপাশের বিছানায় গলায় গামছা বাঁধা এবং মুখে ঘামটেপ লাগানো মা'য়ের নিথরদেহ পরে থাকতে দেখিপাশের বিছানায় উলঙ্গ অচেতন অবস্থায় পরে ছিলো আমার বাবাআমি আমার বাবার শরীরে একটা গামছা দিয়ে ডেকেদিই এবং মায়ের মুখের ঘামটেপ খুলে দেখি মা মারা গেছে।তখন আমি চিৎকার করে কান্না শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আমার বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং পুলিশে খবর দেয়বর্তমানে সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাদীন রয়েছে।"

খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়স্ত্রীকে হত্যার পরে স্বামী আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে

নিহত ছফুরা বেগমের মামা আব্দুস ছামাদ নিউজটোয়েন্টিফোর জিবিকে জানান,নিহতের ভাশুর রশিদ মিয়া এবং ননদের স্বামী দুলাল'র সাথে নিহত ছফুরার পরকীয়ার সম্পর্ক আছে বলে তার স্বামী সন্দেহ করতোএ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতোশেষ পর্যন্ত মেয়েটাকে ওরা মেরেই ফেললো

নিহত ছফুরার মামাতো ভাই প্রতিবেশী নুরু মিয়া বলেন, সকাল সাড়ে দশটার দিকে ছফুরা আমাদের বাড়িতে আসেতার স্বামী তাকে পরপুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্ক  আছে সন্দেহ করে প্রায়ই ঝগড়া করতো এবং মারধর করে আসছিলোআজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই ঝগড়া শুরু করেছেঅকথ্য ভাষায় গালাগাল করছেআমি দুলাভাই(লতিফ)কে বুঝিয়ে বলবো বললে ছফুরা এগারোটা নাগাদ তার স্বামীর বাড়ি ফিরে যায়এর কিছুক্ষণ পরেই ছফুরাকে হত্যা করা হয়েছে খবর শুনতে পাই

অপরদিকে ঘটনার পরপরই গোপালপুর সার্কেল অফিসার মো. সোহেল রানা,ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজহারুল ইসলাম,সাগর দিঘী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্হল পরিদর্শন করেন

ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ আজহারুল ইসলাম বলেন,ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনকলাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছেলাশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এটা একটি পরিষ্কার হত্যাকাণ্ডএ বিষয়ে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছেময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবেবিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান