ঢাকা রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ইং | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

করোনা ইউনিটে মারা যাওয়া লাশ প্রতি ঘোষ বানিজ্যের সেই অফিস কর্মকর্তার বদলি

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২১, দুপুর ১ঃ২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা যাওয়া রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে লাশ প্রতি আদায় করা ঘুষ বাবদ ৩শত টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় এর নেপথ্যে মূল হোতা প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদুল হককে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সরিয়ে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

২৩ নভেম্বর মঙ্গলবার ফরিদুল হকের বিষয়টির সত্যতা উদঘাটনে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ফরিদুল হককে অন্যত্র বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডাঃ মো. শামিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত পাঠানো এক পত্রে (স্মারক-৬৮/২০১০/৫৪২৩(৮) আগামী ৩ দিনের মধ্যে ফরিদুল হককে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে। পত্রে আরো উল্লেখ করা হয় যে, আগামী ৩ দিনের মধ্যে ফরিদুল হক কাজে যোগদান না করলে ৪র্থ দিন থেকে তিনি চাকুরী থেকে অব্যাহতি পাইয়াছেন বলে গণ্য করা হইবে।

ফরিদুল হকের বদলির বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজী বলেন-স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক বদলির আদেশ দ্রুত কার্যকর করতে ফরিদুল হককে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। মুহূর্তেই প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদুল হকের বদলির আদেশের খবর শুনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আনন্দে নেচে উঠেন।

প্রসঙ্গতঃ করোনা ইউনিটে মারা যাওয়া লাশ বহনের জন্য কর্মীদেরকে ১ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদুল হক লাশ প্রতি ৩শত টাকা সেখান থেকে কেটে নিতেন। যা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইন বহির্ভুত। ৩শত টাকা কম পাওয়ার ব্যাপারে লাশবহনকারী ৭ কর্মী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক বরাবর ফরিদুল হকের বিরুদ্ধে এর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। সেই আবেদনের উপর ভিত্তি করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে গত ৪ সেপ্টেম্বর কমিটি রিপোর্ট জমা দেন। সেই তদন্ত রিপোর্টে ফরিদুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফরিদুল হককে অন্যত্র বদলির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর একটি চিঠি দেয়।